রাত জেগে খাওয়ার অভ্যাস আছে আপনার?

রাত জেগে কাজ করা, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে কাজ করা, মুভি দেখা বা বই পড়ার অভ্যাস আছে অনেকেরই। মাঝরাতের দিকে ক্ষুধা পেলে চট করে তারা কিছু একটা খেয়ে নেন। তা হতে পারে ডিনারের অবশিষ্টাংশ, একটু চকলেট, কয়েক মুঠো পপকর্ণ। কিন্তু এই খাবার স্বাস্থ্যকর হোক বা অস্বাস্থ্যকর, তা আপনার হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, জানা গেছে এক গবেষণায়।

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ওপর করা এই গবেষণায় দেখা যায়, সেদেশের মানুষের জীবনযাত্রাই এমন হয়ে গেছে যে তারা রাত্রে দেরি করে ঘুমায় ফলে তাদের ঘুম কম হয়। এর পাশাপাশি তাদের মাঝে মাঝরাতের দিকে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায় বেশি। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক নাওয়ার মাকারেম ও তার সহকর্মীরা ধারণা করেন, এ ধরণের খাদ্যভ্যাস ওবেসিটি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী হতে পারে।

এই গবেষণার জন্য ১২,৭০০ হিস্পানিক ও ল্যাটিনো জাতির প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। গবেষকরা এসব মানুষের খাদ্যভ্যাসের তথ্য, তাদের রক্তচাপ ও ব্লাড সুগারের তথ্য গ্রহণ করেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা দৈনিক যত ক্যালোরির খাবার খান, তার ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি খান সন্ধ্যা ৬টার পর। তাদের ফাস্টিং ব্লাড সুগার বেশি থাকে (অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টা না খাওয়ার পরেও ব্লাড সুগার বেশি), রক্তে ইনসুলিন বেশি থাকে, ইনসুলিন রেজিসট্যান্স দেখা যায় ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়।

যেসব মানুষ সন্ধ্যার পরে বেশি খান তাদের এসব লক্ষণ থাকার অর্থ হলো, তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আর টাইপ টু ডায়াবেটিস হলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাদের হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপেরও ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে নারীদের মাঝে এ ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

রাতের বেলায় খাওয়াটা খারাপ হলেও কী কারণে তা এসব রোগের পেছনে দায়ী তা জানা যায়নি। মাকারেম ধারণা করেন, আমাদের শরীরের ঘড়ির সাথে এত রাত্রে খাওয়াটা খাপ খায় না, এ কারণেই তা ক্ষতি করে। আমাদের শরীরের সব কোষই সময় মেনে চলে। মস্তিষ্কের একটি অংশ মূল ঘড়ি হসেবে কাজ করে। মূলত সূর্যের আলো থেকে এই ঘড়ি নিজের সময় ঠিক করে নেয় ও এ অনুযায়ীই মানুষের ঘুম ও ক্ষুধা পায়। কিন্তু বেশি রাত্রে খাওয়াদাওয়া করলে এই ঘড়ির সময়ে গড়বড় হয়ে যায়। এতে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ও বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*