শুরুর ঝড় সামলে দারুণ প্রত্যাবর্তন সাকিবদের

বাংলাদেশের জন্য বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকসংখ্যা একেবারে কম ছিল না। তাঁদের বিনোদন দিলেন এমন একজন, গোটা সিরিজেই যাঁর ব্যাটে রান নেই। এভিন লুইস। ক্যারিবিয়ান সাগরের ঝড় তিনি আছড়ে ফেলেছেন গ্যালারিতে। লুইসের ঝড়ে ম্যাচের একপর্যায়ে আড়াই শ রানের স্বপ্নও দেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশের বোলারদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করায় লক্ষ্যটা সামর্থ্যের দাগ টপকে যায়নি। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে শেষ ম্যাচে ১৯১ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সন্ধ্যায় শিশিরের মধ্যে বোলিংয়ের অসুবিধার কথা ভেবেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লুইস হয়তো ভেবে রেখেছিলেন অন্য কিছু। গোটা সিরিজে রান পাননি, শেষ ম্যাচে শোধ তুলবেন এবং সেটি শুরু থেকেই। আবু হায়দার রনির করা প্রথম ওভারেই তুলেছেন ১২। শুরুর ঝড়টা এই বাঁহাতি পেসারের ওপর দিয়েই বেশি গেছে। প্রথম স্পেলে ২ ওভারে দিয়েছেন ৩৯! এর মধ্যে রনির দ্বিতীয় ওভার থেকেই এসেছে ২৭—ওই ওভারে চার ছক্কা মেরেছেন লুইস।

রনির করা তৃতীয় ওভারেই ইনিংসের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন লুইস। যে কারণে ৩.১ ওভারের মধ্যে ক্যারিবীয়দের স্কোরবোর্ডে জমা পড়েছে ৫০ রান। পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি রান তোলার রেকর্ডটি আবারও নতুন করে লেখাতে পারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ—সিরিজের প্রথম ম্যাচে যা গড়েছে তাঁরাই। সেটি না হলেও প্রথম ১০ ওভার শেষে ১২.৩০ গড়ে রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লুইসের ঝড় থামাতে পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাকিব। শাই হোপকে (১২ বলে ২৩) তিনি তুলে নিলেও ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ওভারপ্রতি তখন ১৫.২০—আর এর সুবাদেই ৭.১ ওভারেই ২ উইকেটে ১০০।

১০ম ওভারে এসে পর পর দুই বলে লুইস ও শিমরন হেটমায়ারকে তুলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ বের করেন মাহমুদউল্লাহ। বোল্ড হওয়ার আগে ৩৬ বলে লুইস খেলেছেন ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। ১৮ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি, ইনিংসে ছক্কা ৮টি আর চার ৬টি। লুইসের এই বেঁধে দেওয়া ঝড়ের সুর ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন বাকিরা। এতে দ্রুত উইকেট যেমন পড়েছে তেমনি রানের চাকাও সেভাবে থেমে যায়নি। ১৩ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৫১। এখান থেকে রানের গতি কিছুটা কমেছে।

১৫ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৬৮। উইকেটে ছিলেন ‘সেট’ নিকোলাস পুরান ও কার্লোস ব্রাফেট। এক ওভার পরই দুজনকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১৭তম ওভারে এই দুজনকে তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুই শ-র নিচে বেঁধে ফেলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। ওই ওভারে মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। পরের ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও মাত্র ৭ রান দিয়ে চাপটা ধরে রাখেন। ১৯তম ওভারে সাকিব এসে ফেরান ফাবিয়েন অ্যালেন আর অভিষিক্ত রাদারফোর্ডকে। এই ওভারে সাকিব ব্যাটে কোনো রান দেননি। বাই থেকে রান দিয়েছেন মাত্র ২টি।

আড়াই শ-র বেশি রান তোলার স্বপ্ন দেখা থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন গোটা ২০ ওভার খেলে দুই শ তুলতে পারবে কি না, তা নিয়েই শঙ্কায়! মাহমুদউল্লাহর করা শেষ ওভারে রানআউট হয়ে তা সত্যি প্রমাণ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ উইকেট জুটি। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৪ বল বাকি থাকতে ১৯০ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব-মোস্তাফিজ-মাহমুদউল্লাহ। এর মধ্যে সবচেয়ে কিপটে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ (৩.২–০-১৮-৩)।

এই সংবাদটি প্রথম আলো অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহীত

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*