ভোটযুদ্ধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐক্যে বাজছে অনৈক্যের সুর

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে ঢাকঢোল পিটিয়ে একাধিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও ভোটের পর তাতে চলছে ভাটার টান। ভোটযুদ্ধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐক্যে বাজছে অনৈক্যের সুর। জোটের শরিকদের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। এদের কেউ কেউ ফের একসঙ্গে পথচলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্র্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত কারণে ঐক্য হয়নি। স্বার্থগত কারণে ঐক্য হয়েছে। ভোটযুদ্ধে জয়লাভের স্বার্থে এক দল অন্য দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এক্ষেত্রে যেহেতু স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে, কাজেই ভোটে হেরে যাওয়ার পর বিরোধী জোটগুলোর মধ্যে হতাশা কাজ করছে বেশি।

কারণ তাদের স্বার্থ উদ্ধার হয়নি, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। অন্যদিকে শাসক দলের সঙ্গে যারা জোট বেঁধেছিলেন, তাদের অনেকেরই স্বার্থহানি ঘটেছে। শরিক দলের অনেক নেতার প্রত্যাশা ছিল সরকারের অংশ হবেন। কিন্তু তাদের ভাগ্য ফেরেনি। উল্টো বলা হচ্ছে বিরোধী দলের আসনে বসতে।

এসব কারণে এ শিবিরেও তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। হতাশা থেকেই মূলত উভয়পক্ষের জোটভুক্ত দলগুলো ক্রমশ উৎসাহ হারাচ্ছে। এতেই জোটের রাজনীতিতে ভাটার টান স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দেশের দুই বড় দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি অনেকদিন ধরেই জোটগতভাবে পথ চলছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছে ১৪ দলীয় জোট। অন্যদিকে বিএনপির আছে ২০ দলীয় জোট। এর পাশাপাশি এবার ভোটের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেও বিএনপি আলাদা জোট করে।

একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৪ দলের। টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় এই জোট। কিন্তু এবারই প্রথম জোটের শরিকরা কেউ সরকারে নেই। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর নেতারা।

প্রকাশ্যেই তারা এ ইস্যুতে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। অনেকে জোটগতভাবে পথচলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ক্ষমতার বাইরে থেকেও ক্ষোভ-বিক্ষোভের জালে আটকে আছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকরা। জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে একসঙ্গে পথচলা নিয়ে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোটের আগে আসন ভাগাভাগি নিয়ে শরিক দলগুলোকে বিএনপির উপেক্ষার বিষয়টিও। এছাড়া ২০ দলীয় জোটকে গুরুত্বহীন করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপি।

নবগঠিত এই জোটকে বেশি প্রধান্য দেয়া নিয়েও ২০ দলের শরিকদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। যার রেশ এখনও আছে। এত গুরুত্ব দেয়ার পরও জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

সরকারবিরোধী শিবিরে শক্তি বাড়াতে ভোটের আগে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামসহ চারটি রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আলাদা আরও একটি জোট গঠন করে। ভোটের আগে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বসে ছিল না অন্যরাও।

জামায়াত ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছোট কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করেন যুক্তফ্রন্ট নামে আলাদা জোট। নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ নামে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

যদিও ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এসে জোটের শরিকদের ফেলে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয়। ফলে ভোটের আগেই মৃত্যু ঘটে সম্মিলিত জাতীয় জোটের। এর বাইরে বাম প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলো মিলে ভোটের আগে গঠন করে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। একসঙ্গে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনও করে তারা। ভোটের পর এই জোটেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সোমবার যুগান্তরকে বলেন, “দেশে এখন সিন্ডিকেটের রাজনীতি চলছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলো যার যার সুবিধামতো জোটের নামে একাধিক ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলে। এখানে নীতি-আদর্শ এবং নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। কেবল একটাই লক্ষ্য- ক্ষমতায় যাওয়া, ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করা।”

তিনি আরও বলেন, ‘এই ক্ষমতার স্বাদ যতক্ষণ থাকে জোট টিকে থাকে। ক্ষমতার স্বাদ না থাকলে জোট ভেঙে যায় বা যাবে। হয়তো ক্ষমতাসীনদের জোট টিকে থাকবে, কিছু পাওয়ার আশায় এই জোটের শরিকরা জোট টিকিয়ে রাখতে চাইবে। কিন্তু সরকারের বাইরে থাকা বাকিদের মধ্যে জোট টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিন হবে। ইতিমধ্যে বিরোধী জোটগুলোতে তো অনৈক্যের সুর বেজে উঠছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।’

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২৮৮টি আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই ২৫৬টি আসনে জয়লাভ করে। ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২টি, বাংলাদেশ জাসদ ১টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি এবং তরিকত ফেডারেশন ১টি আসনে জয় পায়।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি পায় ২২টি আসন। অন্যদিকে বিএনপি জয়ী হয় ৬টি আসনে। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক গণফোরাম জয়ী হয় ২টি আসনে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতার নির্বাচন করে বিকল্পধারা বাংলাদেশও ২টি আসনে জয়ী হয়।

নির্বাচনের পর ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এই সরকারে প্রথমবারের মতো ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের কাউকে জায়গা দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ শরিক দলগুলো। প্রকাশ্যেই তারা এ নিয়ে কথা বলেছেন। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার গঠনের অঙ্গীকার নিয়েই ১৪ দলীয় জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল।’

জবাবে জোটের প্রধান শরিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এমন কোনো কথা ছিল না।’ তিনি জোটের শরিক দলগুলোকে নিজের পায়ের ওপর ভর করে রাজনীতি করার তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে থেকে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার আহবান জানান।

দু’পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ১৪ দলীয় জোটে শুরু হয়েছে নতুন করে টানাপোড়েন। সরকারে জায়গা না পাওয়া শরিকরা ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে পথচলার যৌক্তিকতাও খতিয়ে দেখছে। জোটের তিন শরিক দলের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ আগামী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি দলের জাতীয় কমিটির সভা আহবান করেছে।

বাংলাদেশ জাসদ ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি আহবান করেছে তাদের জাতীয় কমিটির সভা। অন্যদিকে ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী মে মাসে কংগ্রেস (কেন্দ্রীয় সম্মেলন) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিন দলই নিজস্ব ফোরামে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আমাদের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল এবং করণীয় পার্টি কংগ্রেসে (কেন্দ্রীয় সম্মেলন) ঠিক করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নিজের পায়ের ওপর ভর করেই রাজনীতি করি। এটা অতীতেও বহুভাবে প্রমাণ দিয়েছি। তো কে কি বলল তাতে কিছু যায় আসে না।’

অন্যদিকে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা ১৪ দলীয় জোটে আছি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলাসহ বর্তমান বাস্তবতায় এ জোটের এখনও প্রয়োজনীয় রয়েছে। এ বিষয়টি অন্যদেরও বুঝতে হবে।’ জাতীয় পার্টির-জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে পথচলায় আনন্দ বেশি। একা পথ চলায় কোনো কৃতিত্ব নেই।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মতো টানাপোড়েন চলছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেও। ভোটে পরাজিত হয়ে এই দুই জোটের অবস্থা বেশ করুণ। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট গঠনের পর একসঙ্গে কিছুদিন আন্দোলন করার পাশাপাশি তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।

নির্বাচনে মাত্র ৬টি আসন পায় বিএনপি, গণফোরাম পায় ২টি আসন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ, দলটিকে ২২টি আসনে আসন ছাড় দেয়া প্রভৃতি ইস্যুতে নির্বাচনের পর দলটির সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

শপথ নেয়া না-নেয়া নিয়েও বিরোধ আছে এ জোটে। ড. কামাল হোসেন তার দল গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথ নেয়ার পক্ষে। এ ইস্যুতে আপত্তি বিএনপির। গণফোরাম সভাপতি মনে করেন, ‘এত প্রতিকূলতার মধ্যে তার দলের দু’জন জয়ী হয়েছেন। তাদের শপথ নেয়া উচিত।’

তার দলও শপথ নেয়ার পক্ষে। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে, ‘ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে বিধায় আমরা নির্বাচন বর্জন করেছি এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। এ অবস্থায় শপথ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলন থেকে তারা তাদের সদস্যদের শপথ নেয়া না-নেয়ার বিষয়টি ফয়সালা করবে। জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে থাকা অবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে পথ চলা না-চলার বিষয়টিও নির্ধারিত হবে এ সম্মেলনে।

সূত্র জানায়, গণফোরামের বেশিরভাগ নেতাই এখন আর বিএনপির সঙ্গে পথ চলতে নারাজ। তারা মনে করেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছিল নির্বাচনী জোট। ভোট শেষ এখন এটি আর টিকিয়ে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। এ অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে বাইরে রেখে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের কথা ভাবছেন গণফোরামের নেতারা।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কোনো টানাপোড়েন নেই। বাইরে যা বলাবলি হচ্ছে তা স্রেফ গুজব। আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারেই পথ চলব। তবে জামায়াতে ইসলামী ইস্যুতে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা অতীতেও জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি করার বিপক্ষে ছিলাম, এখনও তাই। এ বিষয়টি বিএনপিকেও অবহিত করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘বড় জোটে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কিছু সমস্যা থাকবেই। এটাকে খুব বেশি বড় করে দেখার কিছু নেই। আশা করছি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ২০ দলীয় জোট আছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও আছে। আগামী দিনে এই ঐক্য আরও বেশি সুসংহত হবে। বিএনপি জোটগতভাবেই এ সরকারের ভোট কারচুপির জবাব দেবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি না ঘটলেও ভোটের পর থেকেই যুক্তফ্রন্টের আর কোনো কর্মকাণ্ড নেই। জোটের অস্তিত্বও নেই আর এখন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তফ্রন্টের শরিক দলের একজন শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে কারও জন্য এটি একটি নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জোট ছিল। ভোট শেষ, জোটের প্রয়োজনীয়তাও শেষ।’

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতিতে বাম-প্রগতিশীলদের দুটি আলাদা জোট কার্যকর ছিল। একটি সিপিবি-বাসদ জোট। অন্যটি ৮ বাম দলের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা’। নির্বাচনের আগে এরা সবাই মিলে গঠন করে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’।

সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে ১৩১টি আসনে ভোট করে এই জোটের দলগুলো। একটি আসনও পায়নি। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ নিয়ে এ জোটেও শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। জানতে চাইলে এ জোটের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী করণীয় এবং লক্ষ্য আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে।’

এই সংবাদটি যুগান্তর অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহীত\

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*