মাদুরো সরকারকে ‘অর্থায়ন’ বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারকে অর্থায়ন বন্ধ করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার এক দিন পর এই মন্তব্য করলেন জন বোল্টন।

আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, গত বুধবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মাদুরো। গতকাল বৃহস্পতিবার জন বোল্টন হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, ইস্যুটি ‘জটিল’ হয়ে উঠেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর পরিবর্তে গুয়াইদোকে অর্থায়ন করার পরিকল্পনা করছেন।


ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে মাদুরো ক্ষমতায় আসেন। তিনি রাশিয়ার মিত্র।

বুধবার হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে ভেনেজুয়েলার অর্ন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে স্বীকৃতি দেন। ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ মাদুরোর বিরুদ্ধে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা আইনের শাসন ও স্বাধীনতা দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আরও জানায়, মাদুরো যদি বিরোধী দলের ঘোষণা বাতিলের চেষ্টা করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

মাদুরোর প্রতি সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো দ্বিধাবিভক্ত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা মাদুরোর বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন। বিদেশি শক্তিগুলোর গুয়াইদোকে সমর্থন দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এ ইস্যুতে আগামীকাল শনিবার বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছে।

অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) গতকাল এক বৈঠকে মাদুরো সরকারকে ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে মন্তব্য করেছে।

বুধবার মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় ভেনেজুয়েলায়। তবে তাঁর সমর্থনেও কিছু মিছিল হয়।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক বিক্ষোভে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা গুয়াইদো নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তাঁর মতে, সম্প্রতি যে নির্বাচনের মাধ্যমে মাদুরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, তার বৈধতা নেই। এ অবস্থায় দেশটির সংবিধান অনুসারে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানান গুয়াইদো। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করবে বলে তিনি জানান। গুয়াইদোর বক্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে স্বীকৃতি দেন।

এদিকে গুয়াইদোর এই পদক্ষেপকে ক্যু বলে মন্তব্য করেছেন মাদুরো। মাদুরো এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে ‘বড় ধরনের উসকানি’ বলে উল্লেখ করেন এবং দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের তিনি দেশ ছাড়তে ৭২ ঘণ্টা সময় দেন। মাদুরো বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা ছাড়ো। আমাদের আত্মমর্যাদা রয়েছে।’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের কর্মীদের ভেনেজুয়েলা ছাড়ার নির্দেশ পাঠিয়েছে ইতিমধ্যে।

১৪ সদস্যবিশিষ্ট লিমা গ্রুপের ১১ সদস্যদেশ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পানামা, প্যারাগুয়ে ও পেরু যৌথ বিবৃতিতে গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। ইইউ গুয়াইদোকে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। তবে স্বাধীন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। আর মাদুরোকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে মেক্সিকো ও তুরস্ক রয়েছে।

কারাকাসভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা দ্য অবজারভেটরি অব সোশ্যাল কনফ্লিক্ট জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় এই সপ্তাহে চলা বিক্ষোভে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*