মোদি হাওয়া উড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা আছে প্রিয়াংকার

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় ভারতের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। এরপর যে মোদি হাওয়া বয়ে চলেছে, তাতে একরকম নাস্তানাবুদ দলটি। বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত সেই কংগ্রেসের শেষ রক্ষায় ‘শেষ অস্ত্র’ নামালেন রাহুল।

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বোন প্রিয়াংকা গান্ধীকে রাজনীতিতে আনলেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশের দায়িত্ব তার কাঁধে ন্যস্ত করেছেন। ভারতের পারিবারিক রাজনীতির একেবারেই আনকোরা মুখ হচ্ছেন প্রিয়াংকা। তবে নতুন হলেও এ মুখের সঙ্গে অতীতের আরেক মুখ ইন্দিরা গান্ধীকে মেলাচ্ছেন অনেকেই।

আর ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য এখানেই লুকিয়ে রয়েছে সমূহ বিপদ। প্রিয়াংকা তা এক নিমিষেই উড়িয়ে দিতে পারেন। ৪৭ বছর বয়সী এই তরুণী এরই মধ্যে প্রতিপক্ষের চোখের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্ল–মবার্গের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

প্রিয়াংকা গান্ধী এক নাম। কিন্তু পরিচয় অনেক। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও সাবেক কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর একমাত্র কন্যা। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকন্যা প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দৌহিত্র।

প্রিয়াংকাকে বুধবার দলের দায়িত্ব দেয়া হয়। লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে প্রিয়াংকাকে রাজনীতিতে নামানো হলেও এ পরিকল্পনা মাত্র কয়েকদিনের নয় বলে জানিয়েছেন রাহুল। শুক্রবার উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে দলের জনসভায় তিনি জানান, কয়েক বছরের আগে নেয়া পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এদিন প্রিয়াংকাকে রাজনীতিতে আনা হয়েছে।

চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘সেমিফাইনাল’ খ্যাত পাঁচ রাজ্যের তিনটিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি। এ জয় আগামী নির্বাচনে বড় জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ জরিপেও উঠে এসেছে তেমনই ফল। এমন একটা পরিস্থিতিতে দলে প্রিয়াংকার উপস্থিতি নেতাকর্মীদের নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে উৎসাহ জোগাবে।

পর্যবেক্ষকরা বলেন, কোঁকড়ানো চুল ও মার্জিত আচরণের প্রিয়াংকার রয়েছে দাদি ইন্দিরা গান্ধীর মতো জনগণ টানার এক অদ্ভুত ক্ষমতা। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের রাজনীতিতে নিজের আকাশসম ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার সেই আপসহীন ব্যক্তিত্ব প্রতিপক্ষের হৃদয়েও হিমশীতল অনুভূতি তৈরি করত।

ভারতের রাজনীতিতে একটা কথা প্রচলিত আছে- উত্তরপ্রদেশ যার, ক্ষমতা তার। সেই উত্তরপ্রদেশেই এবার বিজেপিকে উল্টে দিয়ে ক্ষমতার চাবিকাঠি ভাই রাহুলের হাতে তুলে দিতে পারেন বোন প্রিয়াংকা। সেই ক্ষমতা তার রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এক টুইটবার্তায় কংগ্রেস বলেছে, ‘আমরা উদ্যম নিয়ে এবার এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।’ এছাড়া দলের হয়ে পশ্চিম-উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব মধ্যপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া সামলাবেন বলে একই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এ ঘোষণার পর রাহুল গান্ধী জানান, তিনি তার বোনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উত্তরপ্রদেশের এমন বড় একটি দায়িত্ব দিয়েছেন। ‘আমার কঠোর পরিশ্রমী বোন আমার সঙ্গেই কাজ করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই খুশি এবং উদ্দীপ্ত। জ্যোতিরাদিত্যও একজন প্রগতিশীল নেতা’, বলেন তিনি।

প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রকে বহুদিন ধরেই কংগ্রেসের জন্য শক্তিশালী ট্রাম্পকার্ড মনে করা হয়ে আসছে। এই ট্রাম্পকার্ডই এখন কাজে লাগানো হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে। আর উত্তরপ্রদেশ এমন একটি রাজ্য, যেখানে যে দল জয় পাবে, কেন্দ্রের ক্ষমতা পেতে সে দলের সুবিধা হবে সবচেয়ে বেশি।

এই সংবাদটি যুগান্তর অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহীত\

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*