হটলাইনে অভিযোগ পেয়ে ৭ জেলার পাসপোর্ট অফিসে দুদকের হানা

সাত জেলায় পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের হটলাইন ১০৬- এ আসা অভিযোগের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে ৭টি শক্তিশালী এনফোর্সমেন্ট টিম দিনাজপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, সিলেট, মেহেরপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় মেহেরপুর, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও দিনাজপুরে দুদক টিমের হাতে চার দালাল হাতেনাতে গ্রেফতার হয়। তাদের জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানের সময় মুন্সিগঞ্জে সহকারী পরিচালক হালিমা খাতুনের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়ে। এ ছাড়া সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল ফি’র অতিরিক্ত ১৫শ’ টাকা এবং জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি আদায়েরও প্রমাণ মিলেছে।

অনুসন্ধানকালে জানা যায়, এভাবে ঘুষ না দিলে ইচ্ছাকৃতভাবে পাসপোর্টে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি ধরা হয়।

সিলেট পাসপোর্ট অফিসে অভিযানে দেখা যায়, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে দালালচক্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

সিলেট পাসপোর্ট অফিসে অভিযানে দেখা যায়, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে দালালচক্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।

এদিকে টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসে দালালরা বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাত্রায় ঘুষ আদায় করছেন বলে দুদক টিম প্রমাণ পায়।

এ অফিসে ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পায় দুদক টিম।

অন্যদিকে বরিশাল পাসপোর্ট অফিসে পুলিশ সদস্যরা দালাল সেজে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে বলে প্রমাণ পায় দুদক টিম।

এছাড়াও কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসে অভিযানকালে অফিস সময়ে ৪ জন কর্মকর্তাকে অনুপস্থিত পায় দুদক টিম।

এ অভিযান প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে দুদকের এ অভিযান। দুর্নীতির প্রমাণের ভিত্তিতে দুদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*