খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি যুক্তরাজ্য বিএনপির

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপি।

সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এক বছর ধরে তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় দলটি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদের পরিচালনায় এক প্রতিবাদ সভায় এই দাবি জানানো হয়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মুজিবুর রহমান, লন্ডন মহানগর বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম, যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জাসাসের সভাপতি এমাদুর রহমান, আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার আবুল মনসুর শাহজাহান প্রমুখ।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ছাত্রনেতা মো. মাহবুবুল আলম, তরিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, শরীফ মোহাম্মদ করিম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ শামীম পারভেজ জুয়েল, মো. মিলন, হোসেন ইমাম তৌফিক, মারুফ হোসাইন, মো. দেলোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ তারেক ইকবাল, মো. সাব্বির হোসাইন, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, রাজু আহমেদ, মো. ইমরান হোসেন প্রমুখ।

এই সংবাদটি যুগান্তর অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহীত

৮৭ উপজেলায় মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হচ্ছে বিকালে

প্রথম ধাপের ৮৭টি উপজেলায় মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে আজ সোমবার পর্যন্ত।

এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে।

তবে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পদত্যাগ করতে হচ্ছে না উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের।

স্বপদে থেকেই তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, সরকারি কর্মকর্তারা পদত্যাগ করলেই উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো তাদের তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে না।

রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক অনির্ধারিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তের কথা মৌখিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নিল ইসি। আজ সোমবার প্রথম ধাপের ৮৭টি উপজেলায় মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, পদে থেকে উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা দেখেছি, তাদের পদত্যাগ করতে হবে- এমন কথা আইনে নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে কিছু ‘কনফিউশন’ ছিল। সেটি হচ্ছে- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে উচ্চ আদালত লাভজনক পদ বলার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু আদালতের কোনো রেফারেন্স পাইনি। তাই আমরা মনে করি, পদে থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা নির্বাচন করতে পারবেন। এ বিষয়টি মৌখিকভাবে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে দিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ৮(২) ধারায় যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এ ধারার (ঙ) ও (চ)-এ উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন এবং জাতীয় সংসদে সদস্য বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন, তারা নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ইসি মনে করছে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা লাভজনক পদ নয়।

উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়েও এসব পদকে লাভজনক বলা হয়েছে- এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত পায়নি কমিশন।

এছাড়া সর্বশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও পদে থেকেই নির্বাচন করেছিলেন তারা। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

ওই ঘটনার পর পদত্যাগ করে প্রার্থী হতে হবে- এমনটিই আলোচনায় উঠে আসে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে পদে থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা প্রার্থী হলে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে আইনি জটিলতার ভয়ে এ বিষয়ে ইসি কোনো লিখিত নির্দেশনা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ইসির এ সিদ্ধান্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমে তুলে ধরবেন।

ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রার্থী হতে হলে অবসর থেকে তিন বছর অপেক্ষার কথা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এ উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা পরিষদ আইনে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এ কারণে এ আইন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। অর্থাৎ পদত্যাগ করেই সরকারি কর্মকর্তা এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*