কাদেরের মতো খালেদারও উন্নত চিকিৎসার দাবি বিএনপির

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আল্লাহ যেন ওবায়দুল কাদেরকে দ্রুত সুস্থ করে দেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেয়ার কথা শুনছি। আমরা আগেই বলেছি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ যথেষ্ট নয়। বেগম খালেদা জিয়া বিদেশেও যেতে চাননি। দলের পক্ষ থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (৪ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গতকাল পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালতে এসে খালেদা জিয়া বলেছেন, আমার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। খুবই অসুস্থ আমি। চিকিৎসকরা দরকারি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, দেশবাসীর প্রাণপ্রিয় নেত্রী নিজের মুখে এই প্রথম এমন ভয়াবহ অসুস্থতার কথা বললেন। তার স্বাস্থ্যের চরম ক্রমঅবনতিতে দেশবাসীর মতো আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এক পয়সাও হেরফের না হলেও দুই কোটি টাকার সাজানো মিথ্যা মামলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রেখে আর কত প্রতিহিংসার জ্বালা মেটানো হবে?

বিএনপির নেতা বলেন, আমরা প্রতিদিন নানাভাবে আহ্বান এবং দাবি করে আসছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে জামিনে মুক্তি দিন। তাকে জেলে নেয়ার পর থেকে তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ। দেশবাসী জানেন, তিনি হাঁটতে পারছেন না। পা ফুলে গেছে। হাত অবশ। পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে। চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার আগের অসুস্থতা এখন আরও গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। সার্ভাইক্যাল স্পন্ডিলোসিসের জন্য কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা, হিপ-জয়েন্টেও ব্যথার মাত্রা প্রচণ্ড। ঝুঁকিপূর্ণ শরীর। প্রতি মুহূর্তে আমরা তাকে নিয়ে আশঙ্কায় থাকি।

এ সময় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে আগামী ৬ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

/পিবিডি

খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ১৬ এপ্রিল

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (৪ মার্চ) মামলাগুলো রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু সবগুলো মামলার কার্যক্রম খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া।

পরে শুনানি শেষে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার ২টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১টি মামলা।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয়।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক যাত্রী।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান। ওই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

পিবিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*