টিএসসিতে নুরুলের উপর হামলা, ছাত্রদলের ধাওয়ায় পালালো ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। টিএসসিতে এই হামলার পর নুরুর সমর্থনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। ধাওয়ার মুখে ছাত্রলীগ পালিয়ে গেলে সেখানে এসে জড়ো হন স্বতন্ত্র ও বাম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, নুরুল হকের নেতৃত্বে একটি বিজয় মিছিল নিয়ে তার অনুসারীরা শাহবাগ থেকে মধুর ক্যান্টিন হয়ে টিএসসিতে পৌঁছান। এ সময় ভিপি পদে পরাজিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারীরা নুরুর উপর হামলা করে। পরে পাশে থাকা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে নুরুর সমর্থনের অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা টিএসসিতে জড়ো হয়েছেন।

ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) পদে নুরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে গোলাম রাব্বানী নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান এই ফলাফল ঘোষণা করেন। নুরুল হক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে নির্বাচন করেন। অন্যদিকে জিএস পদে নির্বাচিত গোলাম রাব্বানী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। ঘোষিত ফলাফল অনুসারে ২৫ হাজারের কিছু বেশি ভোট প্রয়োগ হয়েছে। যা মোট ভোটারের ৫৯ শতাংশ। ভিপি পদে নুরুল হক পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। এই নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ২৫৫ জন।

ইত্তেফাক

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ মিছিলে চবি ছাত্রলীগের হামলা
ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করেছেন চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ১০জন কর্মী আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- আবিদ, ওয়াসি, জান্নাত মুমু, সায়মা আক্তার। আহতদের মাঝে বাকি ছয়জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুর অপু বলেন, ‘অনিয়ম ও কারচুপির প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চাকসুর সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে কতিপয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এসময় তারা নারী কমরেডদেরও মারধর ও লাঞ্চিত করেন। এতে আমাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হন। আমরা এ বিষয়ে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিব।

মারধরের বিষয়ে অস্বীকার করে চবি ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে তারা পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যাহত করার জন্য বিক্ষোভ করছিলেন।সেসময় চবি ছাত্রলীগ তাদেরকে প্রতিহিত করেছে।’

এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠ্য বিষয়ক সম্পাদক আমীর সোহেল বলেন, ‘ক্যাস্পাসে তারা স্বাধীনতা বিরোধী আন্দোলন করছিলেন এবং ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিলেন। সে কারণে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ধরণের কথা আপোস করবে না চবি ছাত্রলীগ।

ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*