ধৈর্য ধরে মুসলিমদের আরো শত বছর টিকে থাকতে হবে : মাহমুদ মাদানি

ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলমানদের আরো ধৈর্য ধরতে হবে। ভারতের হায়দরাবাদে জমিয়তে উলামার বার্ষিক সম্মেলনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাহমুদ মাদানি বলেন, এ দলটি ১০০ বছর পূর্ণ করতে চলছে। ভারতবর্ষে ইসলাম আরো উদ্ভাসিত হবে, আরো বেশি প্রভাব বিস্তার করবে, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠার সময় জমিয়তে উলামার লক্ষ্য এটাই ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের কাছে এ বিষয়টি আরো ভালোভাবে পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন। তাহলে তারা শক্তভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে আরো একশ বছর এগিয়ে যেতে পারবেন।

হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা শাব্বির আহমদ। মাওলানা মাহমুদ মাদানি গত পাঁচ বছরে মুসলমানদের সহনশীলতার প্রশংসা করে এটি অব্যাহত রাখার কথা বলেন। তিনি এ সময় বলেন, তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া উচিত, কারণ এটি অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। মুসলিম যুবকদের অস্থিরতার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি খুবই স্পর্শকাতর ইস্যু। তাই এ ব্যাপারে আরো সাবধান হতে হবে। এ সময় বিপথগামী মেয়েদের ব্যাপারে তিনি বলেন, যাদের মধ্যে সঠিক ইসলামী শিক্ষা নেই, তারাই বিপথগামী হচ্ছে। সূত্র : সিয়াসাত ডেইলি

আরো পড়ুন : পাকিস্তানের বউ হওয়ায় বিজেপির টার্গেটে সানিয়া মির্জা
নয়া দিগন্ত অনলাইন ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৭

ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দিলেই সমস্যায় পড়তে হয় দেশটির টেনিসকন্যা সানিয়া মির্জাকে। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিককে বিয়ের পর থেকে বারবারই তাকে এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এবার কাশ্মিরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় সিআরপিএফেরর ৪৪ সদস্য নিহত হওয়ার পর সামাজিক গণমাধ্যমে আবারো টার্গেটে পরিণত হন তেলেঙ্গানা রাজ্যের অ্যাম্বেসেডর সানিয়া মির্জা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি এবার বিজেপির একজন পার্লামেন্ট সদস্যও সানিয়া মির্জাকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করেন।মুম্বাই মিররে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপির এমপি রাজা সিং তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সানিয়া মির্জার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, সানিয়া মির্জা যেহেতু পাকিস্তানের পুত্রবধূ, তাই তাকে রাজ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর হিসেবে রাখা উচিত নয়।

এদিকে সানিয়া মির্জা তার বিরুদ্ধে বলা এসব মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি দেশের জন্যই ঘাম ঝড়াই। তারপরও কেন আমাকেই বারবার দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হবে? তিনি বলেন, আমি যে কোনো সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করি। যারা এটি করে বা ছড়ায় আমি তাদেরও বিরোধী। কিন্তু এর নিন্দা জানাতে প্রকাশ্যে, ছাদের ওপর ওঠে চিৎকার করে বলার অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখার প্রয়োজন নেই আমার। আমি সেলিব্রেটি বলেই কি বারবার আমাকে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হবে?

কঠোর ভাষায় সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সানিয়া বলেন, আমি দেশের হয়ে খেলি, ঘাম ঝরাই। এভাবেই দেশের সেবা করে যাই। সাম্প্রতিক হামলায় নিহত জওয়ান ও তাদের পরিবারের জন্য আমার পূর্ণমাত্রায় সমবেদনা রয়েছে। কারণ, যারা আমাদের দেশকে রক্ষা করেন তারাই প্রকৃত হিরো।

ভারতের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি কালো দিন হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করে সানিয়া বলেন, এ রকম দিন যেন আর না আসে। এই দিনটি ভোলা সম্ভব নয়, ভুলতে দেয়া যাবে না। কিন্তু আমি শান্তির জন্যই প্রার্থনা করব এবং আশা করব, আরও ঘৃণা না ছড়িয়ে আপনারাও তাই করবেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরে সিআরপিএফের গাড়িবহরে এক আত্মঘাতী হামলায় ৪৪জন নিহত হয়। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে আছে ভারত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই যখন নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, তখন ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি পোশাকের ছবি প্রকাশ করেন সানিয়া মির্জা। এর পরপরই তার সমালোচনায় ভরে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

এমনকি অনেকে তাকে দেশদ্রোহী বলেও আখ্যা দেয়। এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। তাকে যারা ট্রলিং করেছেন, তাদেরকে ‘হতাশ ব্যক্তি’ উল্লেখ করে সানিয়া আরো লিখেন, তোমাদের মধ্যে কিছু হতাশ ব্যক্তি রয়েছে, যাদের অন্য কোথাও রাগ দেখানোর নেই এবং ঘৃণা ছড়ানোর কোনো সুযোগই ছাড়বে না তারা।

সূত্র : সিয়াসাত ডেইলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*