প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বিএনপিকর্মীর চিঠি

কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে নিজ হাতে দিয়ে আসা চিঠিতে শামসুল আলম নামে ওই কর্মী লিখেছেন, আমি আপনার (প্রধানমন্ত্রীর) ছোট ভাই শেখ রাসেল না হতে পারি আপনার ভাইয়ের বয়সী একজন ছোট ভাই হিসাবে ও দেশের একজন নাগরিক হিসাবে আপনার নিকট আবেদন করতে চাই যে, আপনি বেগম খালেদা জিয়ার মামলা, মামলার রায় এবং কারাবাস সকল বিষয়ে অবগত আছেন। তিনি অসুস্থ, বয়স্ক, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপাসন-এই বিষয়গুলি বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দিন। আমি তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আপনার নিকট বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

শামসুল আলম আরো লিখেছেন, যেহেতু বিপদ-আপদের কোন হাত পাঁ নেই, আল্লাহ্ সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। আপনাকে কথা দিলাম, ওয়াদা করলাম, আপনার কোন কারনে বা বিপদে যদি কারো নিকট কোন বিষয়ে আবেদন করতে হয় আমি করব। আপনার একজন ছোট ভাই হিসাবে, আমার মত ছোট মানুষ আপনার কাজে লাগতে পারলে নিজকে ধন্য মনে করব। শুধু তাই নয়, মানব কল্যানে যে কোন বিষয়ে আমার মত ছোট মানুষকে আপনি ডাকলে আমি অবশ্যই সাড়া দিব এবং হাজির হয়ে যাব। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে আপনাকে আমি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

চিঠিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন আলম।

সাবেক ছাত্রনেতা শামসুল আলম ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ও লক্ষীপুর জেলা বিএনপির সদস্য। নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, দলের নেতারা বলছেন আইনী উপায়ে বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। অন্যদিকে কর্মসূচিও নেই। তাই বিবেকের দংশন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে নেত্রীর মুক্তি চেয়ে চিঠি দিয়েছি।

ঢাবি ভিসিকে কৈফিয়ত দিতে হবে : দুদু

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের জন্য ঢাবি ভিসিকে কৈফিয়ত দিতে হবে মন্তব্য করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাস্পাস অভিমুখে সাবেক ছাত্র নেতারা কর্মসূচি দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের স্বপ্নের জায়গা। আপনি (ভিসি) যা কিছু করবেন এটা কিন্তু মেনে নেবো না। আমাদের মধ্যে কথা-বার্তা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডাকসুর সাবেক ভিপি-জিএস, সাবেক ছাত্র নেতারা, সারা বাংলাদেশে যে যেখানে ঢাবির সাবেক ছাত্র নেতারা আছেন সবাই আমরা মার্চ করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাবো। কৈফিয়ত দিতে হবে আপনাকে কেনো এরকম নির্বাচন করলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সন্মানকে নষ্ট করলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ডাকসু নির্বাচন যেটা হয়ে গেলো এটা যদি নির্বাচন হয় তাহলে বাংলাদেশে আর সত্য বলে কিছু নাই। আমরা একসময় ছাত্র ছিলাম, ডাকসু নির্বাচন করেছি। সেই নির্বাচন দেশবাসী বিশ্ববাসী দেখেছে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আজকে যারা অনশন করছেন তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলব, তাদের দাবি মেনে নিন। আপনি মানবেন না কেনো? শুধু বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো নয়, ছাত্রলীগও ফলাফল ঘোষণার পরে দুপুর পর্যন্ত বলেছে, নির্বাচন ঠিক হয় নাই, নির্বাচন বাতিল করেন। এমন কোনো সংগঠন নেই যারা এই নির্বাচন বাতিল করার কথা বলে নাই।

দেশবাসীকে লড়াই-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, লড়াই ও রক্ত ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসে নাই। শুধু আন্দোলন করেছেন সেটা না- লড়াই ও রক্ত। শেখ মুজিবকে জেল থেকে মুক্ত করেছে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান আমলে লড়াই ও রক্তের মাধ্যমে।

হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানে আমলে শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয় নাই। লড়াই ও রক্ত দিয়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এটা যদি আপনারা মাথায় না নিতে পারেন তাহলে ভুল হয়ে যাবে। আদালতের দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ হবে না। এদের যারা নিয়োগ দিয়েছেন তাদের স্বার্থ দেখছে। এগুলো একটু আপনাদের ভাবতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*