নিউজিল্যান্ডের বিমানবন্দরে বোমা আতঙ্ক

মসজিদে প্রাণঘাতী হামলায় রক্তের দাগ না শুকাতেই নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের ওটাগোর দুনেদিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার সেখানে বোমা সদৃশ একটি প্যাকেটের সন্ধান পাওয়ার পর নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে।

দেশটির ইংরেজি দৈনিক ওটাগো ডেইলি টাইমস এক প্রতিবেদনে বলছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে এক বিবৃতিতে দুনেদিন বিমানবন্দরে বোমা সদৃশ প্যাকেট পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

সন্দেহজনক প্যাকেটের সন্ধান পাওয়ার পর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। ‘প্যাকেটের ধরন সনাক্ত করার জন্য বিমানবন্দরে পুলিশ এবং বিষেশজ্ঞ টিম পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে দেশটির পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় যান চলাচলে সড়ক বিভাজন তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা ১০ মিনিটে ওই প্যাকেটের খবর আসে পুলিশের কাছে। এ ঘটনার পর দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

তবে বিমানবন্দরে বোমা সদৃশ প্যাকেট পাওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। একটি সূত্র ওটাগো ডেইলি টাইমসকে বলছে, বিমানবন্দরের একটি ভবনের পাশে সন্দেহজনক ব্যাগ দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় দেশটির ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত এক শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী বন্দুক হামলা চালায়। এতে ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরো অন্তত ৪৯ জন। রক্তাক্ত এই হত্যাযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই বিমানবন্দরে নতুন করে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : কী বলছে ঘাতক ট্যারেন্টের পরিবার
নয়া দিগন্ত অনলাইন ১৭ মার্চ ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন মুসুল্লি নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যাকারী ট্যারেন্টের পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকার খবরে জানা গেছে, নিউজ নাইন নামের একটি অস্ট্রেলীয় টিভি চ্যানেল ট্যারেন্টের পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর গ্রাফটনে বসবাস তাদের। তারা এই ঘটনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন।

অন্তত দুই বছর আগ থেকে ট্যারেন্ট এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলো বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সময় তিনি ফেসবুক লাইভ চালু করে হত্যাকাণ্ড চালান এবং এর আগে তিনি একটি ইশতেহার অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। ঘটনার সময় তিনি প্রথমে আল নুর মসজিদে গুলি চালিয়ে ছুটে যান লিনউড মসজিদে। সেখানেও গুলি চালিয়ে এরপর পালিয়ে যান।

ওই ঘটনায় নিহতরা বেশির ভাগই অভিবাসী মুসলিম। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশী রয়েছেন ৫ জন। শান্তি ও সুন্দরের দেশ হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ডে এমন বর্বর হত্যাকাণ্ডের খবরে সবাই বিস্মিত। আর ট্যারেন্ট কেন এমন ঘটনায় জড়িত হলো সেটিও বুঝতে পারছে না তার পরিবার।

২০১০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ট্যারেন্টের বাবা মারা যায়। তার মা কোথায় আছে সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি ওই রিপোর্টে। তবে দাদী ও এক চাচার সাক্ষাৎকার নিয়েছে নিউজ নাইন। সেখানে দাদী বলেছেন, তিনি ছোট বেলা থেকে ট্যারেন্টকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন।

ট্যারেন্টের পরিবার ক্রাইস্টচার্চের হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে তারা এই ঘটনার হতাহতদের কাছে জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

ট্যারেন্টের দাদী ম্যারি ফিটজেরাল্ড(৮১) নিউজ নাইনকে বলেন, ২৮ বছর বয়সী নাতি ট্যারেন্ট ও তার বোনকে আমি ছোট বেলা থেকেই কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছি। খুব সাধারণ একটি মানুষ ছিলো সে সেই সময়। বেশির ভাগ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাটাতো।

ম্যারি বলেন, কিন্তু শুক্রবার সে যে সহিংসতা ঘটিয়েছে তাতে আমরা বিস্মিত। ছোট বেলা থেকে যে ছেলেটিকে আমরা চিনতাম, এ সে নয়। সে পুরোপুরি বদলে গেছে।

ট্যারেন্টের চাচা টেরি ফিটজেরাল্ড বলেন, হতাহত ও তাদের পরিবারের দুঃখগুলো ছাড়া আর কিছু আমার মাথায় আসছে না। এই ঘটনার জন্য পরিবারগুলোর কাছে আমরা দুঃখিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*