বিচারকরা চরিত্রহীন হয়ে যাচ্ছেন: ডা. জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আজকে বিচার বিভাগের চরম অবনতি হয়েছে। বিচারকরা চরিত্রহীন হয়ে যাচ্ছেন, তারা আইন ভুলে গেছেন।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মো রহমতুল্লাহ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জাফরুল্লাহ বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ঘটনা বলি – মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন। পরের আবার ক্ষমাও চেয়েছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো করলো। অথচ যাকে মন্তব্য করা হয়েছিল মামলা করার অধিকার ছিল তার। আর কোটি কোটি টাকার দাবিদার হলে কোর্ট ফি দিতে হয়,ম্যাজিস্ট্রেট-জজ সাহেবরা সেটা জানেন। এসব মামলা গ্রহণ করে জামিন আটকে দেওয়া হয়। একই ঘটনা ঘটেছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও।

তিনি বলেন, আজকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার মূল চিকিৎসা হলো তাকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া, পৃথিবীর আলো বাতাস দেখতে দেওয়া। এটি হলো তার মূল চিকিৎসা। সেটা না করে যদি মাথা ব্যথার জন্য পা টিপে দেওয়া হয়, তাহলে কি মাথা ব্যাথা কমবে?

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় চিকিৎসা হবে তার মানসিক একাকীত্বের। এর জন্য কোনও চিকিৎসককে যুক্ত করা হয়নি। তারা নানা কল্প কাহিনি করে, আজকে উনার যে মানবাধিকার, নৈতিক অধিকার আছে, তাকে আর কিছু না হোক জামিনে মুক্তি দেওয়া হোক। গণতন্ত্র না থাকলে বিচার বিভাগের অবনতি হবে। বিচার বিভাগের বিবেকহীনতা বলেই এই জাতীয় ঘটনা, বিচারকদের মনে রাখতে হবে, কখনও না কখনও আপনাদেরকে জনতার আদালতে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রীর কোনও কথা কাজে আসছে না। শাসন আজকে অপশাসনে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পরিবার নিয়ে যার যার এলাকায় অবস্থান করার নির্দেশ দিলেও কয়জন থাকছে? তাদের নড়াচড়া কী দেখতে পেয়েছেন? পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসকদের গ্রামে যাওয়ার কথা বলছেন। কোনও স্পন্দন কি আপনি শুনতে পারছেন?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করেছেন, কিন্তু বিরোধী দলের কোনও মামলার ক্ষেত্রে কি তা হয়েছে? মামলা প্রত্যাহার করছেন না, জামিন দিচ্ছেন না। এটা না করে ভুল কাজ করছেন। আমি অনুরোধ করবো, অনতিবিলম্বে আলোচনার পথ সুগম করুন, যাতে আমরা দেশে গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*