খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল বলেছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। কেরানীগঞ্জে বিশেষ আদালত স্থানান্তরিত হয়েছে, খালেদা জিয়া সুস্থ হলে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়া হবে কিন এমন প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে আদালতে রূপান্তর করে সেখানে খালেদা জিয়াকে রেখেছিলাম।

আমরা সেটাকে জাদুঘরে পরিণত করছি, প্রোগ্রাম নিয়ে নিয়েছি। অনেক অংশই ভেঙে ফেলা হবে। কাজেই উনাকে আর ওখানে রাখা যাবে না। কেরানীগঞ্জে একটি আধুনিক কারাগার তৈরি করেছি।

সেখানে মহিলাদের অংশটা করতে একটু সময় লেগেছিল। অন্য কাজও বাকি ছিল। সেগুলো করতে একটু সময় লেগেছে। যদি হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করা হয় তাহলে খালেদা জিয়াকে ওখানে নেয়া হবে।’

খালেদা জিয়া রোজা রাখছেন কিনা- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি রোজা রাখছেন, আমি যতটুকু জানি। ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিসের ওষুধ নিচ্ছেন, ইনসুলিন নিচ্ছেন।

আগে ইনসুলিন নিতেন না, সে জন্য ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে ছিল না। এখন উনি (খালেদা জিয়া) ইনসুলিন নিচ্ছেন, এখন উনার শরীর মোটামুটি ভালো আছে, আমরা খবর পেয়েছি উনি আগের চেয়ে অনেক সুস্থ।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘যে ধরনের রোগে তিনি ভুগছেন, সেগুলো অনেক দিনের পুরনো রোগ। যেমন- আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস। সেগুলো তার পুরনো রোগ, সেগুলো তো চলছেই। সেগুলো চলছে বলেই তিনি হাসপাতালে আছেন।’

হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়া কবে ছাড়া পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মিন করেছি যে তার অস্বাভাবিক কিছু হয়নি। কারাগার থেকে আরেকটু ভালো সেবা যাতে পান সেজন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘কেরানীগঞ্জ কারাগারের নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। নির্মাণাধীন একটি কারাগারে খালেদা জিয়াকে স্থানান্তরের সরকারি চিন্তাভাবনা মনুষ্যত্বহীনের কাজ। সরকার তার জীবনবিনাশের ষড়যন্ত্র করছে।’

রিজভীর এ বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃদু হেসে বলেন, ‘কারাগারে নিয়ে জীবন বিপন্ন করব এ ধরনের প্রসঙ্গই আসে না, প্রশ্নই আসে না। এটাকে (কেরানীগঞ্জ কারাগার) যথোপযুক্ত করার জন্যই আমরা কয়েকদিন দেরি করেছিলাম। আমরা এখন উপযুক্ত মনে করছি সেজন্য তাকে ট্রান্সফার করার জন্য প্রক্রিয়াগুলো সমাধা করে চলছি। জীবন বিপন্ন করার প্রশ্নই আসে না। জেল কোড অনুযায়ী, যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে আমরা তাকে দিয়েছি।’

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের অবস্থান কী জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমানকে দেশে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে আনার যে প্রচেষ্টা চলছে আমরা তাকে আনতে পারব। সবকিছু পালন করেই আমরা তাকে আনার চেষ্টা করছি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশে নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের সংখ্যা মহামারী আকারে বেড়ে গেছে। দ্রুত শাস্তি না হওয়ায় এমন অপরাধ বাড়ছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে একমত নই। আপনি সারা পৃথিবীর জরিপ দেখেছেন? সেখানে কী আমরা মহামারী আকারে মনে হয়?

জরিপ নিয়ে দেখবেন, কোন দেশে কতটি রয়েছে, আমাদের দেশে কত। যে ক’টা ঘটনা ঘটেছে, কিশোরগঞ্জ ও অন্যান্য জায়গায় সব আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে, ধরা হয়েছে, ১৬৪ ধারা হয়েছে। আমাদের কাজটা আমরা করে দিচ্ছি। তারপর বিচারে বিভাগের কাজ বিচার বিভাগ করেন। সেখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের যে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেয়ার সেটা কিন্তু পুলিশ করছে। এ ধরনের ঘটনা যে কোনো দেশে একদম নেই তা আপনারা বলতে পারবেন না। সব দেশেই আছে, কম-বেশি আছে। আমাদের দেশে একেবারে মহামারী আকার ধারণ করেছে আমরা মনে হয় এ উক্তিটি সঠিক নয়।’

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরখানে মা ও দুই সন্তানের মৃত্যু, আত্মহত্যা না হত্যা, এটা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে- এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটার তদন্ত চলছে। কোনো ধোঁয়াশা থাকবে না, ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা যাবে।’

এর আগে নবনির্বাচিত বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ও পরিচালকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঈদের আগে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের বিষয়ে বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের আগে অনেকে বেতন দিতে পারে না। প্রতি বছরই সমস্যা হয়, বিজিএমইএ সমাধান করে, এগুলো নিয়ে তারা ১৯ তারিখে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*