মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর পাঁচটি ভবিষ্যত ‘সুপার ফুড’

বিভিন্ন সময় গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল খাবারের কারণেই প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ মারা যায় পৃথিবীতে। আবার স্বাস্থ্যবান থাকা আর একই সাথে পৃথিবীকে রক্ষা করা এই দুই কাজ একসঙ্গে করতে পারাও একটি দুরুহ কাজ বলে রায় দিয়েছেন অনেক বিজ্ঞানী।

নতুন এক রিপোর্ট বলছে, শ্যাওলার মত কিছু জলজ উদ্ভিদ, ক্যাকটাস আর প্রাচীন শস্যদানা হতে পারে ভবিষ্যতের ‘সুপার ফুড’। মানে যেগুলো একই সাথে স্বাস্থ্যকর, আবার পৃথিবীকেও রক্ষা করবে ধ্বংস হয়ে যাবার হাত থেকে।

এ রিপোর্টে ৫০টি তথাকথিত ‘সুপার ফুডে’র তালিকা করা হয়েছে, এর মধ্যে কোনগুলো ভবিষ্যতের মেন্যুতে থাকবে?

মোরিঙ্গা

মোরিঙ্গা গাছকে প্রায়শঃ ‘যাদুর গাছ’ বলে ডাকা হয়। এটি দ্রুত বাড়ে এবং খরা বা মরুতে অনায়াসে টিকে থাকতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে এই গাছের বিভিন্ন অংশ আয়ুর্বেদিক ওষুধ বানানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।

পাতা জাতীয় এই গাছের ফলন বছরে অন্তত সাত বার তোলা যায়। এতে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ রয়েছে, এছাড়া ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়াতে এখনই গাছ প্রচুর চাষ করা হয়। এখন স্যুপ বা কারি জাতীয় খাবারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ড্রামস্টিক বানানোর কাজেও ব্যবহার হয় এই গাছ।

ওয়াকামি

জাপানি এই শৈবাল দীর্ঘদিন ধরেই খাবার হিসেবে প্রচলিত ও সমাদৃত। সমুদ্রের পাড়ের কৃষকরা বিশেষ উপলক্ষে এই খাবার খায় এবং এর ওপর কর দেয়। বর্তমানে জাপানের বাইরে ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনাতেও এর চাষ হচ্ছে। সারা বছর এর ফলন হয় এবং সার ও কীটনাশক ছাড়াই এটি চাষ করা যায়।

শুকনো ওয়াকামি নোনা স্বাদের এবং এতে আয়োডিন ও প্রচুর ওমেগা থ্রি রয়েছে, বিশেষ করে যারা প্রাণীজ প্রোটিন কম খান তাদের জন্য এটি ভীষণ উপকারী। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ ঠেকানোর এক ধরণের প্রক্রিয়া রয়েছে এর মধ্যে।

ক্যাকটাস

ফ্যাকাসে হয় না এমন জাতের এক ক্যাকটাসও থাকবে ভবিষ্যতের ‘সুপার ফুডে’র তালিকায়। মেক্সিকোতে এটি খুবই প্রচলিত খাবার। এর কাঁটাযুক্ত পাতা ও ফল কাঁচা খাওয়া যায়। আবার রান্না করে কিংবা জ্যাম বা জেলী বানিয়েও খাওয়া যায়। সাধারণত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপে হয় এই ক্যাকটাস।

এই ক্যাকটাসের বিশেষত্ব হচ্ছে এতে ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’ কমানোর উপাদান আছে। এটি শরীরে জমা বাড়তি চর্বি কমিয়ে দেয়। তবে এই ক্যাকটাস ওজন কমাতে পারে এমন তথ্য এখনও প্রমাণিত হয়নি। এই ক্যাকটাস হ্যাংওভার কাটাতেও সাহায্য করে।

তবে, অনেকের আবার এই ক্যাকটাস পেটে সহ্য হয় না। কারো-কারো ডায়রিয়া, বামি ভাব এবং তলপেট ফেঁপে থাকা এমন উপসর্গ দেখা যায়।

ফোনিও

এই প্রাচীন আফ্রিকান শস্যদানা বাদামের মত স্বাদের জন্য জনপ্রিয়, বিশেষত মালির বামবারা জনগোষ্ঠীর খুব প্রিয় খাবার এটি। ৫০০০ বছর আগে এটি মিসরে চাষ করা হতো। মরুতে জন্মায় এ উদ্ভিদ, সাদা ও কালো দুই ধরণের ফোনিও পাওয়া যায় বাজারে।

স্বাদে কিছুটা এশিয়ার শস্যদানা কাউনের মত এই খাবার চালের মত ব্যবহার করা হয়। এমনকি এ থেকে বিয়ারও বানানো যায়। এতে প্রচুর আয়রন, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়াম আছে।

বামবারা

মটরশুটি জাতীয় এই খাবারের স্বাদ কিছুটা কম এবং তৈলাক্ত চীনাবাদামের মত। এটি খারাপ জাতের মাটিতেও ফলানো যায়। আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী এই শস্যদানা এখন থাইল্যান্ড আর মালয়েশিয়ার কোন কোন অঞ্চলেও উৎপাদন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা একে পরিপূর্ণ খাবার আখ্যা দিয়েছেন ইতোমধ্যে। এটি সিদ্ধ করে, ভেজে বা রোস্ট করে খাওয়া যায়। আফ্রিকায় এটি দিয়ে স্যুপ রান্না হয়। এতে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, নতুন রক্ত পরিবাহী শিরা তৈরিতে সাহায্য করে। এটি মানুষের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা শক্তিশালী করে। সূত্র : বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*