জীবন দিবো তবুও জাতীয় চোরদের কোনো ছাড় দিবো না: ইমরান খান

নিউজ ডেস্কঃ বিগত ১০ বছরে পাকিস্তানে বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তে উচ্চতর একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে জীবন দিয়ে হলেও জাতীয় চোরদের কোনো প্রকার ছাড় না দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ক্রিকেটার থেকে প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়া এ রাজনীতিক।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইমরান খান এসব কথা বলেন। খবর ডন ও জিয়ো নিউজের।

ইমরান খান বলেন, বিগত সময়ের দুর্নীতি তদন্তের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিশন গঠন করা হবে। এ কমিশনের প্রধান কাজ হবে- কীভাবে দুর্নীতিবাজরা গত ১০ বছরে দেশের ঘাড়ে ৩০ হাজার বিলিয়ন রুপি ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা।

যেসব রাজনৈতিক ‘চোর’দের জন্য পাকিস্তানের ওপরে বিপুল ঋণের বোঝা চেপেছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও হুশিয়ারি করেন তিনি। দুর্নীতিকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দূরাবস্থার মূল কারণ উল্লেখ করে ইমরান বলেন, পারভেজ মোশাররফের আট বছরের শাসনে দুই হাজার বিলিয়ন রুপি বৈদেশিক ঋণ ছিল।

কিন্তু জারদারি ও নওয়াজ শরিফের আমলে বৈদেশিক ঋণ ৪১ হাজার বিলিয়ন থেকে ৯৭ হাজার বিলিয়ন রুপি বেড়েছে। বিগত ১০ বছরেই ৬ হাজার বিলিয়ন থেকে বেড়ে দেশের ঋণ ৩০ হাজার বিলিয়ন রুপি হয়েছে।

প্রসঙ্গত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার চলছে। দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ আগে থেকেই কারাগারে আটক রয়েছেন। সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে গ্রেফতারের পরই মঙ্গলবার মুসলিম লীগের (নওয়াজ) শীর্ষ নেতা হামযাহ শরিফকে আটক করা হয়।

বিরোধী রাজনীতিবিদদের এমন গ্রেফতার দেশটির প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাজেট অধিবেশন চলাকালে এ নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে তুমুল হট্টগোল ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে।

আরো পড়ুন>> সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকে একটি ছবি হাজার হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে। তাতে দেখানো হচ্ছে মুসলিমরা রাস্তা বন্ধ করে নামাজ আদায় করছেন। ওই ছবির ক্যাপশনে ভারতে মুসলিমদেরকে রাস্তায় নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, একটি মহাসড়কের ওপর সত্যি নামাজ আদায় করছেন হাজার হাজার মুসলিম। আর রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বাস, প্রাইভেট কার। হিন্দিুতে এর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে- ইসলামিক দেশগুলোতে যেসব ভুল জিনিস করা হয়, তা কি করে ভারতে বৈধ হতে পারে? যদি মুসলিম দেশগুলোতে রাস্তার ওপর নামাজ আদায় নিষিদ্ধ হতে পারে, তাহলে কেন ভারতে তা নিষিদ্ধ হবে না? কিন্তু যে ছবিটি ব্যবহার করে এসব বলা হচ্ছে, তা মুসলিমরা সড়ক অবরোধ করে বা সড়কে বাধা সৃষ্টি করে নামাজ আদায় করছেন- এমনটা প্রতিনিধিত্ব করে না।

এ ছবিটি ভারতেরও নয়। এ বিষয়ে এএফপির ফ্যাক্ট চেকে ধরা পড়েছে ওই ছবিটি বাংলাদেশের। ঢাকার টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমার সময় তোলা ছবি এটি। বার্ষিক বিশ্ব ইজতেমা চলার সময় ওই ছবিটি তুলেছিলেন ফ্রিল্যান্ড ফটোসাংবাদিক ইউসুফ তুষার। গুগল সার্চে এসব তথ্য ধরা পড়েছে।

তাতে ওই ছবিটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশের টঙ্গিতে তুরাগ নদীর তীবে তাবলিগ জামায়াত ইসলামিক আন্দোলনের বৃহৎ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা। ১৯৪২ সাল থেকে প্রতি বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশ এই ইজতেমার আয়োজন করে আসছে।

এটাকে মুসলিমদের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ সমাবেশ হিসেবে দেখা হয়। টঙ্গিতে এই সমাবেশে রয়েছে সরকারের অনুমোদন। এমন কি সরকারি, বিরোধী দল সহ সব দলের শীর্ষ নেতারা পর্যন্ত এতে যোগ দেন। এ সময় ওই এলাকায় সড়ক আটকে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন না।

তারা রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে এ কাজ করেন না। কর্তৃপক্ষই ইজতেমা নির্বিঘœ করতে বিভিন্ন রুটে গাড়ি চলাচল সীমিত করে দেয়। কিন্তু ওই ছবিটি ভুলভাবে ব্যবহার করে ভারতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে রাস্তায় মুসলিমদের নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করার দাবিতে।

ভারতে যে ছবিটি ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে ‘ৎড়নবৎঃযধৎফরহম.পড়স’ লেখা ওয়াটার মার্ক রয়েছে। এই শব্দটি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে সার্চ করে ছবিটির মূল উৎস পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, এটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফটো এজেন্সি রবার্ট হার্ডিংয়ের ওয়েবসাইটে রয়েছে। ছবির ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ইউসুফ তুষারকে। এরপর গুগলে আরো সার্চ করা হয়। একই স্থানের ছবি পাশাপাশি নিয়ে তুলনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*