হামলা হলে মার্কিন স্বার্থে আগুন ধরে যাবে : ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেড় শ মানুষের প্রাণহানি এড়াতে তিনি ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার খেসারত ইরানকে দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিকে ইরান বলেছে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে ‘আগুন ধরে যাবে’।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত ২০১৮ সালে। ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির করা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক চুক্তি থেকে ওই বছর সরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর মাস দুয়েক আগে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে তারা। ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। অভিযোগ আছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি তেলের পাম্পেও ইরান হামলা চালিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে এমনিতেই উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালি এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) ভূপাতিত করে ইরান। তাদের দাবি, ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল।

বৃহস্পতিবার বিকেলেই মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ড্রোন ভূপাতিত করার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গিয়ে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান।

এসব বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার তিনি এনবিসি টেলিভিশন চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইরানে হামলা হলে সেখানকার কত মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। জবাবে এক জেনারেল বললেন, ১৫০ জনের মতো মারা যাবে। আমি তখন বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবলাম। এরপর বললাম, চালকবিহীন একটি বিমানের বিপরীতে এত মানুষের প্রাণ নেওয়া ঠিক হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি যদি তখন অনুমোদন দিতাম, তাহলে আধাঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা হতো।’

ইরানের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেছেন, ‘ইরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্বার্থে আগুন ধরে যাবে।’

ইরান ইস্যু নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকেও আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামীকাল সোমবার এ আলোচনা হতে পারে।

একটি মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ওমানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হামলা থেকে রক্ষা পেতে হলে ইরানকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তবে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র কেভান খোসরাভি বলেন, ‘ওমানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কোনো বার্তা দেয়নি।’

১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিষয়গুলো দেখভাল করে সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস। আর যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের স্বার্থ দেখে ওমান। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন ড্রোনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রমাণ তারা সুইজারল্যান্ডের দূতের কাছে সরবরাহ করেছে। এদিকে দুই দেশের মধ্য উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় হরমুজ প্রণালি এলাকা দিয়ে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস। এদের মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানও আছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*