সরকার বেশিদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার মানুষের মর্যাদা, মানবতা ও নাগরিক স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে শুধুমাত্র একদলীয় কর্তৃত্ব চিরস্থায়ী করার জন্যই। তবে দুঃশাসনের অবসানের আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠতে শুরু করেছে। এই সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না। জনগণের বিজয় হবেই।

তিনি বলেন, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং বর্তমান সরকারের সকল অপকর্ম ও দুঃশাসন রুখে দিতে জনগণ সাহসিকতার সাথে আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বেই।

বিএনপি ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনকালে বান্দরবান জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউছুপসহ গত কয়েকদিনে ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী সরকার দীর্ঘকাল দেশে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করে কারান্তরীণ করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, নিষ্ঠুর দমননীতি ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ যেকোন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত এবং নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা যেন সরকারের রুটিন কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরী করে মামলা দায়ের করা এবং গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জনগণের ওপর শোষণ-নির্যাতন অব্যাহত রাখা।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে বান্দরবান জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউছুপসহ ১২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।

ইত্তেফাক

প্রতিবেশী দেশে গ্যাসের দাম কমছে আর লুটপাটের জন্য সরকার দাম বাড়াচ্ছে: রিজভী

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে দুপুরে ঢাকা মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়া পল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারো কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মিছিলটি বিজয় নগর মোড়ে পৌঁছলে সেখানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান মধ্যরাতের ভোটের সরকার জনগণকে কষ্টে ফেলতে এবং নিজেদের পকেট ভারি করতে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গ্যাসের দাম কমছে আর লুটপাটের জন্য সরকার দাম বাড়াচ্ছে অবৈধ আওয়ামী সরকার। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে বিশ্বাস করে বলেই এরা জনগণের ভালো-মন্দ বিচার করে না। জনগণের ওপর জুলুম ও শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে দেশের সম্পদ লুটপাট করাই এদের একমাত্র লক্ষ্যে।

আর এজন্যই জনগণের রক্ত চুষতে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যাচ্ছে বর্তমান অবৈধ আওয়ামী সরকার। এখন তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটলো গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে। জনগণের ওপর নিপীড়ণ চালিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জনের দ্বারা সরকারের লোকদের পকেট ভারী করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে জনগণের কাঁধে চাপানো হলো গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ভারী বোঝা। আমরা সরকারের এই বেআইনী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর না করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

রিজভী বলেন, সরকার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি রাজপথে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ৩০ ডিসেম্বরের আগের রাতে ভোট চুরির মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও দীর্ঘ মেয়াদে অবৈধ ক্ষমতা ভোগ করতেই বেগম খালেদা জিয়াকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০ মাস আগেই মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে রেখেছে সরকার। যেকোনো মুহূর্তে জনতার ঢেউ রাস্তায় উত্তাল হয়ে উঠবে। মধ্যরাতের ভোটের সরকার বলেই বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে মাটিচাপা দিয়ে বিএনপিসহ সকল বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে একদলীয় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু জনগণ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এই অলীক স্বপ্ন কোনোদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না।

বিক্ষোভ মিছিলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি ইউনুস মৃধা, নবী উল্লাহ নবী, মোশারফ হোসেন খোকন, মীর হোসেন মীরু, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান নাদিম প্রমুখ।

ইত্তেফাক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*