টুর্নামেন্ট সেরা কেন উইলিয়ামসন

রোহিত শর্মা আসরের সর্বোচ্চ ৬৪৮ রান করেছেন। পাঁচটি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ডেভিড ওয়ার্নার বল টেম্পারিং কান্ড থেকে জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপ রাঙিয়েছেন। করেছেন রোহিতের চেয়ে মাত্র এক রান কম। সাকিব আল হাসান রেকর্ড ৬০৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এতো ভালো পারফর্ম কোন অলরাউন্ডার করতে পারেননি। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষে সেরা হলেন কেন উইলিয়ামসন।

ব্যাট হাতে অধিনায়ক হেসেবে রেকর্ড ৫৭৮ রান করেছেন তিনি। রোহিত-সাকিবদের চেয়ে ঢের কম বটে। ম্যাচও খেলেছেন বেশি। কিন্তু তার ওই রানে ভর করেই ফাইনালে উঠেছে কিউইরা। রানের বন্যা বইয়ে দিয়েও রোহিত-ওয়ার্নাররা যা পারেননি। দলকে টেনেছেন একা। আর তাই টুর্নামেন্ট সেরা উইলিয়ামসন। তার জন্য আফসোস হলো দু’বার ফাইনাল খেলেও শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হলো না।

টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নিতে এসে কেন উইলিয়ামসন তার পুরস্কার নিয়ে শুরুতে কিছুই বলতে পারেননি, ‘কিছু অতিরিক্ত রান দেওয়া আমাদের জন্য কাল হয়েছে। ম্যাচে অনেক কিছুই আমাদের বিপক্ষে গেছে। ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন। তারা পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলেছে। তাদের এটা প্রাপ্য ছিল। তবে নিউজিল্যান্ড অনেক মানুষের মন জয় করেছে।’ শচীন টেন্ডুলকারের হাত থেকে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নেন কেন উইলিয়ামসন।

হ্যামারের দুমদুম শব্দ আর শুনতে পাবে না পদ্মাপাড়ের মানুষ

দীর্ঘদিন কাজ করার পর রোববার রাতে পাইলিংয়ের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ায় পদ্মা সেতুর নির্মাণে হ্যামারের কাজ শেষ। এর ফলে হ্যামারের দুমদুম শব্দ আর শুনতে পাবে না পদ্মার উভয় তীরের মানুষ।

আড়াই বছর ধরে রাতে হাতুড়ি/হ্যামার চালানোর শব্দ শুনে দূর গ্রামের মানুষও বলে দিতো, এ তো পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। রোববার সেতুর ২৬ নম্বর পিয়ারের ৭ নম্বর পাইলটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে এ কাজের সমাপ্তি হলো। এখন আর সেতু তৈরিতে কোনো প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা থাকল না।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, হাতুড়ির/হ্যামারের পরিচিত শব্দটি আর কানে আসবে না। তবে বড় চ্যালেঞ্জের কাজটি যে সম্পন্ন হয়েছে, এটিই অনেক ভালো লাগার। কতটা ভালো লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না। সেতুর পিয়ারের পাইল স্থাপনের কর্মযজ্ঞটি ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। উত্তাল পদ্মাকে জয় করার এই প্রচেষ্টা এখন সাফল্যে রূপ নিয়েছে। আশা করি এখন বাকি কাজগুলোও সফলভাবে শেষ করতে পারবো।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে পাইল বসানোর কাজ শুরু হয়। নানা জটিলতার মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়েছে। পদ্মা নদীর মাটির বৈচিত্র্যতার কারণে পাইলের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, পদ্মা সেতু ছিল প্রধানমন্ত্রীর একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতুর কাজে হাতে দেন তিনি। রোববার একটি বড় চ্যালেঞ্জ পার হয়েছে। সেতু নির্মাণে এখন আর তেমন কোনো বাধা নেই।

সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ শেষ হয়েছে। পাইলগুলো বসানোর কাজ শেষ হওয়ায় এ বছরের মধ্যে চেষ্টা করা হবে সবকটি পিয়ারের নির্মাণকাজ শেষ করতে। একই সঙ্গে স্প্যান বসানোর কাজও চলবে।

মূল সেতুর ৮১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*