এই সরকার ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়ানক: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ডেঙ্গু বনাম খুন-গুম-নারী নির্যাতন। এদের মধ্যে যদি প্রতিযোগিতা হয়, তাহলে দেখা যাবে ডেঙ্গু এখনো শিরোপা অর্জন করেনি। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত যত মারা গেছে, তার চেয়ে গুম-খুন-নারী নির্যাতনে লাশের মিছিল অনেক বড়। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে ডেঙ্গুর চেয়ে ভয়াবহ কে? এই সরকার। এই সরকার ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়ানক।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-হত্যা-গুম-গণপিটুনি ও অপহরণের প্রতিবাদে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম অবনতি : কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আয়োজিত সেমিনারে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এডিস মশা আওয়ামী লীগ চেনে না, বিএনপিও চেনে না। সরকারি দল চেনে না, ধনী-গরিব চেনে না। তাই ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান মিলে-মিশে করতে হবে, সম্মিলিতভাবে করতে হবে।

গয়েশ্বর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে ‘সিটি করাপশন’ উল্লেখ করে বলেন, এই দুই সিটি ভবন মানে এখানে ‘করাপশনের’ আড্ডাখানা। তিনি বলে, প্রতি বছর মশা মারার নির্ধারিত বাজেট আছে। মশা মারার একটা প্রকল্প আছে, তাদের সুনির্দিষ্ট বিভাগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে। প্রতি বছর ওষুধ কেনা হয়। এগুলো কী হয়? এগুলো যা হওয়ার তাই হয়। এগুলো ভাগাভাগি হয়। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন মশা মারার কাজটি সঠিকভাবে করলে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করত না।

গয়েশ্বর আরও বলেন, রাজনৈতিক নেত্রীর মুক্তি হয় রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের নেত্রী (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) জেলখানায় যাওয়ার পরে আমরা এমন কোনো আন্দোলন করতে পারি নাই যে সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে। আর আন্দোলনের কোনো আওয়াজও আমরা আদালতে দিতে পারিনি। আর খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে জজদের ওপরে জনগণ ক্ষুব্ধ হবে। এই বার্তাও আমরা দিই নাই।

বিএনপি নেতা বলেন, গণপিটুনির আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না? সে বিষয়টি সামনে আনতে হবে। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, এর সঙ্গে বিরোধী দলের হাত আছে। তার মানে কি? তার মানে, দেশকে চরম একটা অবস্থানের মধ্যে ফেলে দেওয়া এবং কোনো একটা সময়ে তারা নিজেরাই দেশ ছেড়ে কেটে পড়ে কি না।

সেমিনারে সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*