বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করার চক্রান্ত চলছে : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করার চক্রান্তে সরকার সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করার সকল কাজ এ সরকার সম্পন্ন করেছে।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের নেতারা উন্নয়নের ফুলজুরি বলে। কিন্তু প্রতিটি উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করা গেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সেই উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, এ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করেছিল। সমস্ত গণতন্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল তো বটেই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বন্ধ করে দিয়েছিল তো বটেই অর্থনীতিকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য করে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিলো।

তিনি বলেন, আমাদের এই কথাগুলো বারবার মনে করা উচিত। আজকে বাংলাদেশের যতটুকু উন্নয়নের কথা বলা হয় সেই উন্নয়নের ভিত্তিগুলো কিন্তু তৈরি করা হয়েছিল বিএনপি সরকারগুলোর আমলেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের গ্রামে কোনো মেয়ে বাসায় বসে থাকে না, সবাই স্কুলে যায়। এই মেয়েদেরকে স্কুলে নেয়ার জন্য বেগম জিয়াই প্রথম শুরু করেছিলেন শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি। এর মাধ্যমে তিনি মেয়েদের কি স্কুলে আনতে উৎসাহিত করেন। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের কোনো বেতন দিতে হবে না- এটাও কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আজকের পরিবেশ নিয়ে এত কথা। পরিবেশ আন্দোলন তো শুরু হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এই ঢাকা থেকে তিনি ডিজেলচালিত স্কুটার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পলিথিন বন্ধ করে দিয়েছিলেন, উপকূলে লাখ লাখ গাছ লাগিয়েছিলেন। আজকে গরু-ছাগলের উৎপাদন বাড়ছে এই যে ডেইরি ফার্ম, পোল্ট্রি ফার্ম এগুলো তার নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল। দেশে উৎপাদন করেছিল বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কারাগারে আটকে রেখেছেন। কারণ তিনি যদি আজকে বাইরে থাকতেন তবে এই অর্থনীতিকে যে পরনির্ভরশীল করে ফেলা হচ্ছে এটা করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরো বলেন, সরকার আগে ধ্বংস করেছে পাটশিল্পকে এখন ধ্বংস করছে চামড়া শিল্পকে। আজকে আমাদের যারা চামড়া ব্যবসায়ী এই কোরবানির পরে আমার চামড়ার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি সেটাকে পরিকল্পিতভাবে এই সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করার সুদূরপ্রসারী যে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত সে কাজ এ সরকার বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এ সরকার শুধু যে জনগণের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে তাই নয়, দেশকে পরনির্ভরশীল করার চক্রান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পরে অনেকেই বলেছেন, যারা বিশেষ করে বাংলাদেশের বিরোধী তারা অনেকেই মনে করেছে এবার মনে হয় বিএনপি ধ্বংস হয়ে যাবে, শেষ হয়ে যাবে, বিএনপি আর দাঁড়াতে পারবে না। তখন কিন্তু আমাদের মহিয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয়তাবাদী পতাকাকে হাতে নিয়ে সেটা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে জনগণকে সাথে নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এই পরিক্রমায় তিনি হারিয়েছেন তার দীর্ঘকালের বাসভবন, যেখানে তার নানার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি হারিয়েছেন তার সবচেয়ে প্রিয় ছোট ছেলেকে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শুধুমাত্র তার ছেলেকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। বড় ছেলে, যিনি এখন আমাদের দায়িত্ব নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব, তিনি নির্বাচিত অবস্থায় বিদেশে অবস্থান করছেন। এখন প্রায় ১৮ মাস আমাদের নেত্রী কারাগারে রয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বিদেশে ছিলেন এবং তিনি চাইলে নাও আসতে পারতেন। তিনি জানতেন যে তিনি ফিরে এলেই মামলা চলবে, মামলা শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে এবং এই সরকার তাকে কারারুদ্ধ করবে। এসব জেনেও তিনি দেশে ফিরে এসেছেন ও আদালতের সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমি শুধু গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য কাজ করছি এবং আজকে শুধু এ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানটির দিকে সম্মান দেখিয়ে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আপনারা জানেন দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এমন কিছু করতে পারছি না যে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তাকে বের করে নিয়ে আসতে পারব। আজকে আইন-আদালতের ভূমিকা আমরা জেনে গেছি, তারা কি করছে না করছে। আজকে আমাদেরকে সুসংগঠিত হতে হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, নিতাই চন্দ্র রায়, শামসুজ্জামান দুদু, ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*