মেহেদী-পাপনসহ ২০ জনের বেশি মনোনয়ন বাতিল

আসছে ১৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল। ২৭ বছর পর আবারও কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের সম্মেলনে অংশ নিতে ছাত্রদলের সভাপতি পদে ৪৪ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৬৬ জনসহ মোট ১১০ নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাঁদের মধ্যে ৭৬ জন মনোনয়ন জমা দেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের পরেই বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিবাহিত হওয়া ও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। তবে মনোনয়ন বোর্ড যাচাই-বাছাইয়ের আগে সেসব বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি। আজ মঙ্গলবার ছাত্রদলের মনোনয়ন যাচাই বোর্ড যাচাই-বাছাই শেষে যাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে আর যাঁদের মনোনয়ন বৈধ, সেটি প্রকাশ করবে।

এখন পর্যন্ত ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী প্রায় ২০ জনের বেশি নেতার মনোনয়ন বাতিল করেছে সম্মেলনের জন্য গঠিত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই বোর্ড। তাঁদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সদ্য সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাদিয়া পাঠান পাপন। তাঁদের দুজন বিরুদ্ধে বিবাহিত হওয়ার অভিযোগ ছিল আগে থেকে।

এ ছাড়া মনোনয়ন বাতিলের তালিকায় আছেন মো. আসাদুল আলম টিটু, এম আরজ আলী শান্ত, মিরাজ আজিম, সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর, মহামুদুল হাসান শাহীন, ওমর ফারুক হিমেল, আব্দুল হান্নান, আরাফাত বিল্লাহ খানসহ ২০ জনের বেশি নেতা। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন রুবেল ও নাইম হাসান।

ছাত্রদলের এবারের কাউন্সিলে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ও মনোনয়ন যাচাই বোর্ডের সদস্য এ বি এম মোশাররফ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২০ জনের অধিক নেতার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আরো দুজন তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এ ছাড়া আরো চার-পাঁচজনের আপিল আছে। তাঁদেরগুলো শেষ হলে আমরা চূড়ান্তভাবে জানাতে পারব, কতজনের মনোনয়ন বাতিল আর কতজনের বৈধ।’

ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আরেক নেতা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৭ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আজ বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।’

মনোনয়ন বাতিল হওয়া ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আল মেহেদী তালুকদার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। তবে কেন বাদ দিয়েছে, সেটি আমি জানি না। আমি এর বিরুদ্ধে আপিল করব।’

এদিকে আসাদুল আলম টিটুর কাছে মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ছাড়া সরদার আমিরুল ইসলাম সাগরকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমারটা যতদূর জানি এখনো পেন্ডিং আছে। আজ যদি সেটি বাতিল করে, কাল আমি আপিল করব।’

কেন পেন্ডিং রাখা হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমার মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ আছে। সে জন্য পেন্ডিং রাখা হয়েছে। আজ বিকেলে সেটির সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে জানতে পারব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*