চলতি মাসেই কঠোর কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে বিএনপি

দীর্ঘ বিশ মাস যাবত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন, আলোচনা সভা, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতীকী অনশন ও বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি মিলবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ আন্দোলন। তাই খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য সংগঠনকে গুছিয়ে আন্দোলনে নামবে দলটি। এর পাশাপাশি ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মূল দৃষ্টি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিকে।

বিএনপির ছাত্র সংগঠন, আন্দোলনের ভ্যান গার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতেও কর্মসূচি জোড়ালো করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, ২০ মাস হয়ে গেছে দলীয় প্রধান কারাবন্দী। এত দিনেও দলীয় প্রধানকে আইনিভাবে কারামুক্ত করতে না পারা বা তার মুক্তির দাবিতে রাজপথে জোড়ালো কোন আন্দোলন গড়তে পারেনি বিএনপি। এ নিয়ে সরকারি দল থেকেও প্রায়ই খোঁচা শুনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকে আবারও মাঠের কর্মসূচি শুরু করছে বিএনপি।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সবাইকে সমুন্নত রাখতে হবে এবং সামনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে এই জালেম সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

বুধবার( ১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতে বিচারকরা মুক্ত ভাবে কাজ করতে পারছে না। আর এ কারণের আইনি প্রক্রিয়ার খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাচ্ছে না। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। তবে, আমাদেরকে এর সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে এবং সে জন্য কর্মসূচী দিতে হবে। একমাত্র রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়ার মুক্তি আমরা অর্জন করতে পারি।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের মনে হয় বেশী দিন মানববন্ধন চলবে না। আমাদেরকে দানববন্ধন কর্মসূচি দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের আদালত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের উপর নির্ভর করা তার জন্য অপেক্ষা করা অসম্মানজনক।’

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সিলেট, ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ ও ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির। পর্যায়ক্রমে রংপুরসহ অন্যান্য জেলায়ও সমাবেশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এদিকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোটাভুটিতে ছাত্রদলের মূল নেতৃত্ব দাঁড় করানো গেলে সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। পাশাপাশি আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে এর ফল পাওয়া যেতে পারে। কারণ, অছাত্র ও বয়স্করা নেতৃত্বে চলে আসায় ছাত্রদলকে নিয়ে একটা বাধা তৈরি হয়েছে বলে প্রচার আছে। সেটা হয়তো এবার ঘুচবে।

এমআর/এনই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*