সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এখন রোহিঙ্গাদের ওপর নানারকম নিপীড়ন চালাচ্ছে

সামনে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেছেন, এনআরসির (ভারতের নাগরিকপঞ্জির) পরে সেখান থেকে বাদ পড়াদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, তাদেরকে ভারতে থাকতে দেয়া হবে না। সামনে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে নিজের দলের নতুন ওয়েবসাইট প্রদর্শন এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সমস্যার সুরাহা না হতেই ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিকপঞ্জিতে ১৯ লাখ মানুষের স্থান না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য নতুন সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
নাগরিক ঐক্যের এই আলোচনা সভায় দলের প্রধান উপদেষ্টা এসএম আকরাম, সমন্বয়ক শহিদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় নেতা মমিনুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, মঞ্জুর কাদেরও বক্তব্য রাখেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান সরকারই আটকে দিয়েছে বলে মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্না বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করে মাধ্যমে বিষয়টিকে সমাধানের ‘অযোগ্য’ করে ফেলেছে। সরকার অনেক দেশকে বন্ধু দাবি করলেও কোনো দেশ বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়নি বরং তারা মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
মান্না বলেন, সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এখন রোহিঙ্গাদের ওপর নানারকম নিপীড়ন চালাচ্ছে। কিন্তু তারা এনআইডি পেয়ে যাচ্ছে। তাদের মোবাইল সিম বন্ধ করবে কীভাবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ উল্লেখ করে ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না বলেন, বিনা পরীক্ষায় এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। অনেকে নাকি ডাকসুর নেতাও হয়েছে। এদের ভর্তি বাতিল করে দেন। কিন্তু ভিসির কী এই ক্ষমতা আছে?
তিনি বলেন, এই সরকার কোনো একটা কাজও ঠিকভাবে করতে পারছে না। রোহিঙ্গাদেরও এরা বের করতে পারবে না। বিরোধী দলকে নির্যাতন, অত্যাচার, গ্রেফতার করা ছাড়া কিছুই করতে পারছে না, এমনকি মশাও মারতে পারে না এ সরকার।

নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বালিশ কাণ্ড এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পর্দাকাণ্ডের প্রসঙ্গে মান্না বলেন, বাংলাদেশে এখন বালিশের দাম বেশি, না পর্দার দাম বেশি? লাখ টাকা দিয়ে এখন পর্দা বানায়, একথা আমরা কখনও শুনিনি। রূপপুর প্রকাশিত হয়েছে, তখন ভেতরে ভেতরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ তো ছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা তো নেয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*